মোঃ ফারজুল ইসলাম:রংপুর
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে সামাজিক অভিশপ্ত ব্যাধি হিসেবে পরিচিত ৭ জন কুষ্ঠ রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল দিন ব্যাপী উপজেলার ১০ নং শানেরহাট ইউনিয়নের ৫ টি গ্রামে ৭ রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসুচী ও দি লেপ্রসি মিশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় শানেরহাট ইউনিয়নের খোলাহাটি, দামোদরপুর, পাহাড়পুর, ধল্ল্যাকান্দি এবং রায়তি সাদুল্লাপুর গ্রামে রোববার কুষ্ঠ রোগী সন্ধান করা হয়।
ওই অনুসন্ধানে ২১০ জন পুরুষ, ছেলে শিশু ১৫০ জন, মহিলা ৩১০ জন এবং কন্যা শিশু ১৪০ জন মোট ৮১০ জনের শরীরে রোগের লক্ষণ দেখে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর ৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা রোগী শনাক্ত করা হয়।
সামাজিক কারণে তাদের নাম ও পরিচয় দেয়নি। যাদের শরীরে অনুভুতিহীন ফ্যাকাশে বা লালচে দাগ, মুখমন্ডলসহ শরীরে ব্যাথাহীন দানা বা গুটি, কানের লতি মোটা হওয়া, চোখের ভ্রুতে লোমের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে যাওয়া, ব্যাথাহীন ফোস্কা পড়া বা ঘা হওয়া, শরীরের চামড়ায় দাগবিহীন অবশ ভাব থাকলেই তা কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ বলে জানা গেছে। রোববার এই রোগ চিহ্নিত করার পর দি লেপ্রসি মিশন বাংলাদেশ এর অর্থায়নে বিনামুল্যে ৬ মাসের চিকিৎসা শুরু করা হয়।
কুষ্ঠ রোগ অভিশপ্ত হওয়ায় মানুষ খারাপ বলবে বলে অনেকেই রোগটির কথা বলেন না। এমনকি চিকিৎসা নিতেও আসেন না বলে দি লেপ্রসি মিশন বাংলাদেশ এর পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার গবেষণা সুপারভাইজার শাহানা বেগম জানান। তিনি আরও জানান, বিগত ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের ৩৩১টি গ্রামের ১ হাজার ৩৬৮ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয়ায় তারা সুস্থ হয়েছেন।
চলতি বছর ২৬ জনের চিকিৎসা চলছে। আজকে (গতকাল) আরও ৭ জনের চিকিৎসা শুরু করা হলো। এ নিয়ে ৩৩ জনের চিকিৎসা চলছে। কুষ্ঠ রোগের যথাযথ চিকিৎসা না নিলে মানুষ বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা গ্রামে গ্রামে খুজে রোগী শনাক্ত করছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল আলম মন্ডল বলেন, মানুষ খারাপ বলবে এই ভয়ে কুষ্ঠ রোগীরা নিজেকে লোক চক্ষুর আড়ালে রাখেন। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় তাদের হাত, পাসহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পঙ্গু হয়ে যাবে। তা তারা ভাবে না। পাশাপাশি তারা নিজেদের নাম পরিচয়ও বলেন না। তাই আমরা এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করে আসছি।